আজ ভারতের ১৫ ই আগস্ট ইতিহাস এক পরম এবং গৌরবময় দিন।
১৯৪৭ সালের এই দিনে দীর্ঘ ২০০ বছরের পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙ্গে জন্ম নিয়েছিল এক স্বাধীন সার্বভৌম ভারতবর্ষ। আজ আমরা আমাদের 80 তম বর্ষ উদযাপন করছি।
আজ আমাদের বিদ্যালয়ে কিংবা এখানে সেখানে সগৌরবে উড়ছে আমাদের জাতীয় পতাকা তেরেঙ্গা।
এই পালন করা স্বাধীনতা কোন দান নয়, এটি মহাত্মা গান্ধী, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, ভগত সিং ,ক্ষুদিরাম বসু সহ হাজারো বীর শহীদের রক্ত ও আত্মত্যাগের ফসল।
স্বাধীনতা আমাদের কাছে শুধু স্বাধীনভাবে বাঁচা নয়। স্বাধীনতা আমাদের মানসিক, বৌদ্ধিক, আধ্যাত্মিক, আচরণগত এবং চারিত্রিক গঠন বিকাশের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তোমাদের কাছে বিশেষভাবে অনুরোধ তোমরা পুরোটা পড়ো, আশা করি তোমাদের ভালো লাগবে এবং আমি আমার যথেষ্ট চেষ্টাতে তোমাদেরকে বোঝানোর চেষ্টা করব।
১৯৪৭ সালের ১৭ই আগস্ট যখন স্বাধীনতা লাভের আনন্দে গোটা ভারতবর্ষের মানুষ স্বাধীনতা উদযাপনে আত্মহারা। তখন তারা জানতে পারে অখন্ড ভারতবর্ষকে আলাদা করা হবে একটি রেখার মাধ্যমে সেটি হচ্ছে রেড ক্লিপ লাইন। দুটো আলাদা আলাদা পৃথক পৃথক দেশ হবে একটা হচ্ছে ভারত আর একটা হচ্ছে পাকিস্তান। হিন্দুরা থাকবে ভারতে আর মুসলিমরা থাকবে পাকিস্তানে। এই একটা কথা দাবানলের আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়ে সমগ্র ভারতবর্ষে।
১৯৪৭ সালে ভারতের স্বাধীনতা লাভের পর পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান থেকে অসংখ্য সংখ্যালঘু হিন্দু ও শিখ স্বভূমি ছেড়ে ভারতে আসতে বাধ্য হয়। ফলস্বরূপ ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে জনসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেতে থাকলে কর্মসংস্থান, খাদ্য সংস্থান, ইত্যাদি বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংকট তৈরি হয়। ভারত সরকার আগত উদ্বাস্তুদের জন্য ত্রাণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হিমশিম খায় এর ফলে যে সমস্যা উদ্ভূত হয় তা উদ্বাস্তু সমস্যা নামে পরিচিত।
সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা- ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ও ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে দেশভাগের পরিপ্রেক্ষিতে স্বাধীনতার প্রথম পাঁচ বছরে উদ্বাস্তু সমস্যা তীব্র আকার ধারণ করেছিল। পশ্চিম পাকিস্তান থেকে আগত লক্ষ লক্ষ উদ্বাস্তু উত্তর-পশ্চিম ভারতে মূলত পাঞ্জাবে আশ্রয় নিয়েছিল। অন্যদিকে পূর্ব পাকিস্তান থেকে আগত উদ্বাস্তুরা জীবন ও জীবিকার মূলত এপার বাংলা অর্থাৎ পশ্চিমবঙ্গ এবং ত্রিপুরায় আশ্রয় নিয়েছিল।
বিপুল সংখ্যক শরণার্থী প্রাথমিকভাবে ফুটপাতে, স্টেশনে, খোলা আকাশের নিচে এবং বিভিন্ন উদ্বাস্তু ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়েছিল পরে অবশ্য ছিন্নমূল্য এসব মানুষজন উদ্যোগে কলোনি গড়ে তোলেন বহু উদ্বাস্তুকে দণ্ডকারণ্য আন্দামান ইত্যাদি স্থানে পুনর্বাসনে পাঠানো হয়। তার জীবন যন্ত্রণা ভয়াবহ স্মৃতি এবং পূর্বতন গ্রাম বা শহরের মধুর স্মৃতি ধরা পড়েছে তাদের আত্মকথা স্মৃতিকথা এবং সমসাময়িক সাহিত্যে এই দেশভাগ দাঙ্গা এবং অভিপ্রয়াণের জনতা সাক্ষী নারীরা ও ছিলেন, তারাও তাদের ভয়াবহ স্মৃতি যন্ত্রণা সর্বোপরি সংগ্রামকে কাগজে-কলমে বা আলা প্রচারিতায় তুলে ধরেছেন। মোটকথা উদ্বাস্তু এবং তাদের পুনর্বাসন সমস্যা সদ্য স্বাধীনতা প্রাপ্ত ভারতের সামনে গভীর সংকর সৃষ্টি করেছিল।
উদ্বাস্তু সমস্যার সমাধানে ভারত সরকারের উদ্যোগ সমূহ- ভারতের প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু উদ্বাস্তু সমস্যার ভয়াবহতা উপলব্ধি করেন এবং ছিন্নমূল্য উদ্বাস্তুদের পূর্ণবাসনের নীতির উপর গুরুত্ব দেন।তাই স্বাধীনতার প্রথম পাঁচ বছর পুনর্বাসনের যুগ নামে পরিচিত। এই সময় উদ্বাস্তুদের বাড়ি তৈরি, জীবিকা নির্বাহ প্রভৃতির জন্য আর্থিক সহায়তা করা হয়।
উদ্বাস্তু শিবির গুলিতে বসবাসের সময় সরকার উদ্বাস্তুদের খাদ্য পোশাক, পরিচ্ছদ,পানীয় জল, আলো, ওষুধ পত্র কিছু নগদ অর্থ ইত্যাদি সরবরাহ করত এছাড়া সরকার উদ্বাস্ত বালক বালিকাদের জন্য শিক্ষাদানের ব্যবস্থা করেছিল। এইভাবে ভারতের উদ্বাস্তুর সমস্যা সমাধানে ভারত সরকার অনেকটা সফল হয়েছিল।
আমাদের মূল আলোচ্য বিষয়ে
- স্বাধীনতা পাওয়া যতটা কঠিন তা রক্ষা করা তার চেয়ে বড় দায়িত্ব।
- দেশের প্রতি আমাদের ভালবাসা শুধু একদিনের উদযাপনে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়।
- সমাজের উন্নতির জন্য আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
- আজ পবিত্র দিনে আমরা শপথ নিই, আমরা দেশের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করব এবং আমাদের মাতৃভূমিকে আরও শক্তিশালী ও সুন্দর গড়ে তুলবো।
একইভাবে আমরা বক্তৃতার মঞ্চে বড় বড় কথা এবং বড় বড় ভাষণ দি। আচ্ছা প্রকৃতপক্ষে কি আমরা আমাদের দেশকে ভালবাসি, শ্রদ্ধা করি।🤔🤔
বর্তমান ভারতের পরিস্থিতি
এবার আমি তোমাদের কাছে পৃথিবীতে বিভিন্ন রকমের ডাটা অনুযায়ী ভারতের বিভিন্ন রকমের তথ্য দিচ্ছি। যেমন,,
- ভারত এখন বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত দেশ গুলির মধ্যে একটি।
- বর্তমানে ভারতের প্রধান এবং পবিত্রতম নদী গঙ্গা, পৃথিবীর সবচাইতে দূষিত নদী হিসেবে পরিণত হয়েছে।
- বিভিন্ন কলকারখানা থেকে বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ নদীতে নিক্ষেপের কারণে নদীর জল দূষিত হওয়ায় বিভিন্ন জলজ জীব মারা যাচ্ছে এবং মানুষের দেহে বিভিন্ন রোগের পাদুর্ভাব দেখা দিচ্ছে।
- আগে গোটা পৃথিবীতে জিডিপির পরিমাণে ভারতের শতাংশ ছিল ৭% কিন্তু এখন যা কমে ৫% নেমে এসেছে।
- আগে পৃথিবীতে অপরাধের দিক থেকে ভারতের স্থান ছিল ১০৪ যা বর্তমানে ৭৭ এসে ঠেকেছে। ফলস্বরূপ গোটা দেশজুড়ে দাঙ্গা, তোলাবাজি, ধর্ষণ খুন প্রভৃতি বৃদ্ধি পেয়েছে।
- ভারতের রাজধানী এবং প্রধান প্রশাসনিক শহর দিল্লী এখন পৃথিবীর সবচাইতে দূষিত শহর হিসেবে পরিণত হয়েছে। কারণ সমূহ পরিকল্পিতভাবে নগরায়ন, বৃক্ষচ্ছেদন,অতিরিক্ত যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি, মানুষের সচেতনতার অভাব।
২০২৬ সালে WHO এর ডাটা অনুযায়ী দিল্লিতে একজন ব্যক্তি ২৪ ঘণ্টা থাকলে যা ক্ষতি হবে তা ১৭ টা সিগারেট খাওয়ার সমান।
আমরা বছরের এই একটা দিনই দেশাত্মবোধের গানের টেটাস দি। ভারতবর্ষকে পৃথিবীর সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ এবং আদর্শ দেশ হিসেবে গণ্য করি। কিন্তু,,
আর বাকি ৩৬৪ দিন দেশের নামে নানা উল্টোপাল্টা, আবোল-তাবোল কথা বলি। হ্যাঁ ঠিক এমনই আমরা।😡😡
তবে আসুন স্বাধীনতার চেতনাকে সঙ্গে নিয়ে দেশকে এক সুন্দর ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ার পথে এগিয়ে নিয়ে যাই। 🙏🙏🙏
মানুষের অসচেতনতার অভাবে যেখানে সেখানে প্লাস্টিক বজ্র অপরিকল্পিতভাবে পড়ে রয়েছে।
বর্তমান বিশ্বের সবচাইতে দূষিত শহর দিল্লী। 😰😰😰
সবার কাছে বিশেষ অনুরোধ তোমরা সবাই একটা করে লাইক করে দিও। তোমাদের এই একটা লাইক আমাকে অনেক অনুপ্রেরণা দেবে এরকম তথ্য সরবরাহ করার জন্য। ধন্যবাদ 🙏🙏🙏🙏
পোস্ট রাইটার : -
অমিত মাইতি


ConversionConversion EmoticonEmoticon