ব্লগার বা ব্লগিং কি, রোজগার কিভাবে করবে ?

ব্লগার বা ব্লগিং কি, রোজগার কিভাবে করবে ?
বর্তমান ইন্টারনেট দুনিয়ায় ব্লগিং সম্বন্ধে জানেনা এমন মানুষ পাওয়া কঠিন আছে। আমাদের সমাজে এখন প্রত্যেক মানুষের কাছে ইন্টারনেটের ব্যবস্থা এবং একটি করে স্মার্টফোন রয়েছে। যে সব ব্যক্তিরা ব্লগিং সম্বন্ধে জানে না তাদের  জানানোটা অবশ্য দরকার। বিশ্বের উন্নতি এবং অর্থনৈতিক দেশগুলিতে  ব্লগিং পেশা হয়ে উঠেছে।   যেসব মানুষরা পার্ট টাইম ইনকাম করতে চাইছে। মানুষরা এই  ব্লগিং  কে পেশায় পরিণত করেছে।  বিশ্বের প্রথম ইন্টারনেট দুনিয়ায় ফ্রিতে রোজগার করার একটা রাস্তা তৈরি করেছে এই ব্লগিং।

Blogger theke rojgar korbe kibhabe



ব্লগার কি ?

 ব্লগ শব্দ বা ভাষাটি ইংরেজ Blog এর  সাধারণত বাংলা প্রতিশব্দ  হিসেবে জানা যায়। What is Blogger এই শব্দটির অর্থ দেখতে গেলে অনলাইন ব্যক্তিগত যোগাযোগ ব্যবস্থার অন্যতম দ্রুত মাধ্যম। Blog  ইংরেজির শব্দটি হয় Weblog ছোটখাটো রূপ  বা সংক্ষিপ্ত রূপ।  যে সব মানুষেরা  ইন্টারনেট দুনিয়ায় পোস্ট করে এইসব ব্যাক্তিদের ব্লগার বলা হয়।  এইসব মানুষেরা ইন্টারনেটের বা ওয়েবসাইট থেকে নানা রকম তথ্য সংগ্রহ করে নিজের মতো করে মতভেদ প্রকাশ করে মানুষের মধ্যে নিয়ে আসে।  কনটেন্ট  গুলো পড়ে নিজের মতভেদ প্রকাশ করতে পারে। 
 বর্তমান সমাজে এই ব্লগগুলি  সংবাদমাধ্যম হয়ে ফুটে উঠেছে সারাবিশ্বে।  প্রতিনিয়ত যেসব ঘটনা গুলি ঘটছে সেই সব ঘটনা বহু ব্লগাররা প্রতিনিয়ত আপডেট করে মানুষের কাছে নিয়ে আসছে।  প্রথম প্রথম মানুষেরা ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার করত  ব্লগটিকে।
  বর্তমান বিশ্বে সামাজিক যোগাযোগের ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে এই ব্লগের মাধ্যমে।  অনেকে আছে যারা ব্লক এবং ওয়েবসাইটের পার্থক্য বোঝে না। কারণ দুটোই প্রায় একই ধরনের হয়ে থাকে। ওয়েবসাইট গুলোকে  আপডেট করা হয় অনিয়ম ভাবে এবং ব্লগ গুলো আপডেট করা হয় নিয়ম বিধি মেনে। এটাই হলো ব্লগ  এবং ওয়েবসাইট মধ্যে মূল পার্থক্য। অনেক ওয়েবসাইট এবং ব্লগগুলি বর্তমান দুনিয়ায় প্রতি মিনিটে আপডেট করা হয়।

ব্লগিং কি বা ব্লগ কাকে বলে: 
  যেকোনো একটা ওয়েবসাইটে কোন নির্দিষ্ট বিষয়ে পাঠকদের মতামত  দেওয়ার জন্য তুলে ধরা  এবং যোগাযোগ মাধ্যম সক্রিয় রাখার কে ব্লগিং বলে।  What is blogging or what does a blogger say?  সংক্ষেপে যদি বলি যেকোনো বিষয়ের ব্লগ এবং ওয়েব সাইট গুলোতে লেখালেখি করা হয় তাকেই ব্লগিং বলে। সাধারণভাবে বলা যেতে পারে  এই ব্লগিং গুলি নানারকম বিষয়ের হয়। যেমন কাহিনী, ভ্রমণ,  টেকনোলজি, এডুকেশন,  রাজনীতি,  সংবাদ এবং ইত্যাদি। আপনার জীবন কাহিনী ডায়েরির মত এদিকে ওদিকে ছড়িয়ে রাখা। 

ব্লগিং শুরু করবো কিভাবে :

ব্লগিং শুরু করার আগে আপনাকে কিছু কথা মাথায় রাখা দরকার না হলে শুরু করার পর মুখ থুবড়ে পড়তে পারেন বা অযথা কাজ করা বৃথা হতে পারে। How to start blogging? ব্লগিং করার আগে নিচের পয়েন্টগুলি অবশ্য পড়ে নিন।  তারপর ব্লগতৈরি করে আপনারা কাজ করতে পারেন।

  • ​ ব্লগ তৈরি করার আগে আপনাকে ভেবে নিতে হবে আপনি কোন বিষয়ে ব্লগটি তৈরি করতে চলেছেন।
  • ​ ব্লগ গুলিকে সাজিয়ে গুছিয়ে লিখতে হবে যাতে মানুষের বুঝতে সুবিধা হয় এবং জানতে সুবিধা হয়।
  • ​ আপনার যে বিষয়ের সুবিধা হবে বাল লিখতে ভালোবাসেন সেই বিষয়ের  সম্পূর্ণ জ্ঞান থাকা দরকার।
  • ​ ব্লগ গুলিকে সাজিয়ে  লিখতে হবে যেমনটা আমরা প্যারাগ্রাফ লিখি।
  • ​ যে বিষয়ে লিখবেন অন্য কোথাও কপি করে লেখার চেষ্টা করবে না। যে বিষয়টি অন্য কেউ লিখেছে সেটাকে আপনি অন্য ভাবে লিখতে পারেন।
  • ​ ব্লগ যেহেতু গুগোল কোম্পানির তাই এরা ইউনিক কিছু চায় তাতে আপনার আর্টিকেল বা প্যারাগ্রাফটি মানুষের কাছে পৌঁছায়।
  • ​ যে বিষয়ে ভালো লিখতে পারেন বা বুঝতে পারেন সেই বিষয়ের লেখার চেষ্টা করবেন তাহলে আপনার ব্লগ টি রংকে আসবে।
  •  ব্লগিংয়ের এইসব বিষয় গুলি আপনাকে সব সময় মনে রাখতে হবে।

কিভাবে ব্লগ তৈরী করব:

 আপনারা ভাবছেন ব্লগ তৈরি করবে কিভাবে? How to create blog? ব্লক তৈরি করার আগে আপনাকে একটা জিমেইল অ্যাকাউন্ট বানাতে হবে। যে জিমেইল টা আপনি সচরাচর ব্যবহার করবেন বা আপনার কাছে যে কোন একটা জিমেইল অ্যাকাউন্ট হলে হবে। এই জিমেইল একাউন্টের পাসওয়ার্ড সব সময় মনে রাখতে হবে না হলে আপনি ব্লগ টি হারাতে পারেন।
Stap-1  আপনাকে ব্রাউজার ওপেন করে সার্চ বারে গিয়ে টাইপ করুন Blogger.com।   টাইপ করার পর ওই তাকে সার্চ দিন তাহলে আপনার কাছে blogger.com এর অফিশিয়াল সাইট ওপেন হয়ে যাবে। 
Stap-2 এখানে সামনের কনে ব্লগার বলে লেখা থাকবে এবং অপর একটি কনে সাইন ইন এর বাটন থাকবে এগুলো কিছু করতে হবে না আপনাকে মাঝখানে create your blog বলে আসবে  ওইখানে ক্লিক করতে হবে।
Stap-3 নতুন টেপ ওপেন হয়ে যাওয়ার পরে এখানে আপনি আপনার জিমেইল একাউন্ট টাইপ করবেন।  নিচের দিকে Next টিতে ক্লিক করুন। তারপর ওই জিমেইল অ্যাকাউন্ট পাসওয়ার্ড চাইবে পাসওয়ার্ড দিয়ে next করে দেবেন। 
Stap-4  আপনার কাছে নতুন একটি উইন্ডো ওপেন হয়ে যাবে। আপনাকে আপনার ব্লগের টাইটেল দিতে হবে। Blog title  এমন ভাবে দেবে সম্পূর্ণ ইউনিক এবং নতুন হতে হবে। 
Stap-5  টাইটেল অনুযায়ী আপনাকে address অপশেন দিতে হবে ডোমেন নেম।   এই ডোমেইন নামটি পর .blogspot.com  যোগ হবে।  যদি  আপনি কাস্টম ডোমেন ব্যবহার করেন তাহলে আপনার  ব্লগতে, ব্লগস্পটি  উঠে যাবে।  কাস্টম ডোমেইন নেম কেনার জন্য আপনাকে কিছু অর্থ ব্যয় করতে হবে প্রায় 100 থেকে 900 টাকা পর্যন্ত হতে পারে। যদি আপনি ফ্রিতে ব্যবহার করেন তাহলে এসবের কিছু দরকার নেই।
Stap-6  এরপরের  অপশন টি রয়েছে  নিচের দিকে এটাকে  থিম বলে।  এখানে আপনারা অনেক ধরনের থিম পেয়ে যাবেন আপনার পছন্দসই  থিমটি ক্লিক করে এরপরের পেজে যেতে পারেন নিচে ক্রিয়েট বাটনে ক্লিক করে। এরপরের পেজে এমন কিছু নেই জাস্ট এখানে নো থ্যাংকস করে দেবেন। তারপর আপনি ব্লগারের দেশ বাড়ি পৌঁছে যাবেন
Stap-7 স্টেপ সেভেনে আপনার কাছে অনেকগুলি অপশন চলে আসবে তার মধ্যে রয়েছে
Posts
All
Stats
Comments
Earnings
Pages
Layout
Theme
Settings
Reading List
Help & Feedback

 এই অপশন গুলো পেয়ে যাবেন ।  এখানে যে Pages  অপশনটি যে রয়েছে এখানে তিনটে পেজ গঠন করতে হবে। পেজের যে নামগুলো হবে contact us, private policy, about us  এই তিনটে পেজ গঠন করতে হবে।  এই পেইজগুলো গঠন করার কারণ আপনার সঙ্গে কন্টাক্ট এর মাধ্যমে যোগাযোগ করতে, আপনার সম্বন্ধে জানতে পারে এবং আপনি কি কারনে বানিয়েছেন ব্লক টি এবং এই ব্লগের মাধ্যমে মানুষকে কি দিতে পারবেন। এই তিনটে পেজ করা অত্যন্ত প্রয়োজন রয়েছে। 

ব্লগ লেখার নিয়ম কি:

​আপনাকে  কিছু টাইপ করে লিখে রাখা দরকার সেগুলো আপনাকে প্রথমত ব্যবহার করতে হবে। What are the rules for writing blog? সেগুলো আপনি পয়েন্ট হিসাবে দিয়ে রেখেছিস অবশ্যই সেগুলো পড়বেন।


  1. ​ প্রথমত আপনাকে তিনখানা পেজ তৈরি করে রাখতে হবে।  না হলে এডসেন্স কিংবা অন্যান্য নেটওয়ার্কগুলো রয়েছে এড দেওয়ার জন্য  এডভেটাইজ এর জন্য অনুমতি দেবে না।
  2. ​ প্রত্যেকটা প্যারাগ্রাফের পয়েন্টগুলো হাইলাইট করে লিখতে হবে।
  3. ​যেটা লিখবে পুরোপুরি লেখার চেষ্টা করবেন না হলে ব্লক অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।
  4. ​ এমনভাবে বিষয়গুলো তুলে ধরবেন যেগুলো আগে কখনো মানুষ ঠিকভাবে জানে না, সেইসব প্যারাগ্রাফ গুলি লেখার চেষ্টা করবে।
  5. ​ 70 থেকে 100 খানা ওয়ার্ড হয়ে গেলে একটা করে লাইন ছেড়ে লেখার চেষ্টা করবেন তাহলে যিনি পড়বেন তার পড়তে সুবিধা হবে আর্টিকেল  বা প্যারাগ্রাফ গুলি।

 ব্লগিং করে রোজগার কিভাবে করবেন :

 ব্লগিং করে রোজগার করার জন্য আপনাকে অবশ্যই অ্যাডসেন্স বা  অন্যান্য  অ্যাড নেটওয়ার্কের  সম্বন্ধে জেনে নেওয়া দরকার। How to make money blogging? আপনার সাইটে যদি এড না আসে তাহলে কোন মতেই সম্ভব নয় রোজার করা। এটা নেওয়ার জন্য সবচেয়ে বেস্ট প্ল্যাটফর্ম হল অ্যাডসেন্স। 
 অ্যাডসেন্স হল গুগোল এর কোম্পানি। আপনারা জানবেন ইউটিউব গুগল এডসেন্স সহ অনেকগুলো এদের অ্যাপ্লিকেশন বা ওয়েবসাইট গুলো রয়েছে।

 এইসব ওয়েবসাইট এবং অ্যাপ্লিকেশনের মধ্যে অ্যাড গুলি সম্প্রচার করে এডসেন্সের মাধ্যমে।  আপনি যদি  ব্লগ টির  ড্যাশবোর্ডে যান তাহলে দেখতে পাবেন earning আর্নিং বলে একটি অপশন আসবে এবং আর্নিং এর সাইডে একটি ডলারের সিম্বল রয়েছে। ওই আর্নিং-এ গিয়ে যদি ক্লিক করেন আপনার সামনে নতুন একটা  পেজ ওপেন হয়ে যাবে।  এখানে দেখতে পাবেন Visit AdSense for details of my earnings বা Switch AdSense account  এই লিখাটি।  এখানে ক্লিক করে আপনি সোজা এডসেন্সের পেজে পৌঁছে যাবেন ।
  অ্যাডসেন্সে গিয়ে আপনার একাউন্ট ক্রিয়েট করে নিবেন। আপনার ব্লগার এর যতক্ষণ না 20 থেকে 25 টি আর্টিকেল প্যারাগ্রাফ লিখতে পারছেন ততক্ষণ আপনাকে এডসেন্স এর জন্য অপেক্ষা করতে হবে।  আরো বিস্তারিত জানার জন্য আপনি ইউটিউবে গিয়ে বাংলায় অনেক ভিডিও রয়েছে সেগুলো দেখতে পারেন এবং শিখতে পারেন।  এডসেন্স থেকে কিংবা অন্যান্য নেটওয়ার্ক থেকে অ্যাড চালালে এখান থেকে ভালো অংকের পয়সা পেতে পারেন। 
নিশ্চয়ই আপনারা এখান থেকে জানতে পারলেন   

  • ব্লগার কি:  
  • ব্লগিং কি বা ব্লগার কাকে বলে:
  • ব্লগিং শুরু করব কিভাবে:
  • ​ কিভাবে ব্লক তৈরি করব :
  • ​ ব্লক লেখার নিয়ম কি:
  • ​ ব্লগিং করে রোজগার কিভাবে করবেন:
এই ছিল ব্লগ টির বিষয়গুলি। আপনার কেমন লাগলো কমেন্ট করতে ভুলবেন না এবং ফলো করার চেষ্টা করবেন। 




Previous
Next Post »